ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতায় থমকে নওগাঁ-বদলগাছি আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে তিন বছরেও শেষ হয়নি নওগাঁ-বদলগাছি আঞ্চলিক সড়কের মাত্র ১০ কিলোমিটার প্রশস্তকরণের কাজ। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী, যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

অভিযোগ উঠেছে, ক্ষতিপূরণের টাকার হিসাব থেকে ১০ শতাংশ কর্তনের একটি চিঠি দেওয়ায় প্রশাসনের সঙ্গে সড়ক বিভাগের জটিলতা তৈরি হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা এখনও ক্ষতিপূরণ বুঝে পাননি। অন্যদিকে জমি হস্তান্তর না হওয়ায় কাজ অসমাপ্ত রেখে সরে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তিন বছরে শেষ হয়নি ১০ কিলোমিটার কাজ

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯টি প্যাকেজে জেলার বিভিন্ন সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে এক নম্বর প্যাকেজে শহরের বালুডাঙ্গা বরুকান্দি মোড় থেকে কীর্ত্তিপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ককে ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স জামিল ইকবাল লিমিটেড।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৬৮০ জনের জমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হয় এবং ক্ষতিপূরণের জন্য ৬২ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু স্থাপনার মূল্য থেকে ১০ শতাংশ কেটে নেওয়ার চিঠি দেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। এতে জেলা প্রশাসন ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণ বন্ধ রাখে। ফলে কাজও থমকে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের হতাশা

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক আব্দুল মামুন, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ও জিল্লুর রহমান বলেন, তিন বছরেও ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি তারা। দেড় বছর ধরে সওজ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সমাধান হয়নি। একাধিক মালিক জানান, অনেকেই কেবল জমির মূল্য পেয়েছেন, স্থাপনার মূল্য পাননি।

সড়কের ভয়াবহ অবস্থা

সরেজমিনে দেখা গেছে, অসমাপ্ত সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে কীর্ত্তিপুর ও পাহাড়পুর বাজার এলাকায় সড়কের অবস্থা ভয়াবহ। বাস, ট্রাকসহ যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী, অটোচালক সবাই প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কায় রয়েছেন।

মোটরসাইকেল আরোহী মিঠু হাসান বলেন, “গর্তে ভরা রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

সওজ ও প্রশাসনের ব্যাখ্যা

নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, “ক্ষতিপূরণের টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জমি হস্তান্তর না হওয়ায় কাজ শেষ করা যায়নি। জমি বুঝে পেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।” ১০ শতাংশ কর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্থাপনার নিলাম এড়াতেই এ চিঠি দেওয়া হয়েছিল।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহেল রানা জানান, “সওজ থেকে দেওয়া চিঠির কারণে কিছুটা জটিলতা হয়েছিল। তবে এখন সেটি সমাধান করা হয়েছে। অন্য কিছু মামলা ও অভিযোগ থাকলেও আংশিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি শিগগির সমাধান হবে।”

- Advertisement -

এদিকে ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, সওজ ও প্রশাসনের গাফিলতির কারণে তারাই বঞ্চিত হচ্ছেন। আর সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিদিন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *