সিরাজগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃত্রিম প্রজনন (এআই) টেকনিশিয়ান পদে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সার্কুলার উপেক্ষা করে তেরো ইউনিয়নে ১৪ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি নিয়োগে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে পরবর্তীতে “ক্যান ও গান” সরঞ্জাম প্রদানের অজুহাতে অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. মো. তোফাজ্জল হোসেনের প্রভাব ও যোগসাজশে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈধ প্রার্থীরা এ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
২০১৬ ও ২০২৩ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন দপ্তর থেকে একাধিক নির্দেশনায় বলা হয়, একই ইউনিয়নে একাধিক এআই পয়েন্ট বা নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এতে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক অবৈধ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নে বৈধ এআই ফিরোজ মল্লিকের স্থলে কাজ করছেন আলমগীর। এ ঘটনায় ফিরোজ মল্লিক কামারখন্দ আদালতে মামলা (নং: ৩৫/২০২৫) দায়ের করেছেন। একই উপজেলার রায়দৌলতপুরে বৈধ শফিকুল ইসলামের পাশাপাশি জাহাঙ্গীর এবং ভদ্রঘাটে বৈধ আব্দুল মমিনের স্থলে আব্দুর রহিম কাজ করছেন। সদর উপজেলার শিয়ালকোলে নুরুল ইসলাম, বহুলীতে মুঞ্জুর আলম ও কালিয়াহরিপুরে রাকিব হোসেন অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিলে আলাউদ্দিন, ব্রক্ষ্মগাছায় শফিকুল ইসলাম, চান্দাইকোনায় লুতফর রহমান ও আমির খসরু, পাঙ্গাসীতে রাকিবুল ইসলাম একইভাবে অবৈধভাবে কাজ করছেন। উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুরে আবু হান্নান, তাড়াশ উপজেলার নওগাঁয় ইসহাক এবং মাগুরায় উত্তম কুমারও কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি ইউনিয়নে একজন বৈধ এআই নিয়োগের নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্বিতীয় একজনকে অতিরিক্ত পয়েন্টে নিয়োগ দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়েছেন। প্রতি নিয়োগে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে এবং সরঞ্জাম প্রদানের নামে অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। বর্তমানে এসব অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের কেউ কেউ নিজেদের “সরকারি এআই কর্মকর্তা” পরিচয়ে কাজ করলেও তাদের কোনো বৈধ অনুমোদন বা কাগজপত্র নেই। প্রশাসনিক তদন্তের আশঙ্কায় অনেকেই দায়িত্ব ছাড়ার কথা ভাবছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আনোয়ারুল হক বলেন, “এআই নিয়োগের বিভাগটি আলাদা হওয়ায় বিষয়টি আমার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক বদলি হয়েছেন, আগামী সপ্তাহে নতুন কর্মকর্তা যোগ দেবেন। সব নথি তার কাছেই সংরক্ষিত আছে।” ঈশ্বরদী জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক (এ/আই) ডা. মো. সেলিম হোসেনের ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
