চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোয়েপাড়া গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন রাউজান উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সুমন, বাগোয়ান ইউনিয়ন কৃষক দলের সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম চৌধুরী, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও বিএনপি কর্মী মোহাম্মদ সোহেল। তারা সবাই বাগোয়ান ইউনিয়নের বাসিন্দা।
আহতদের মধ্যে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সুমনের বুকে গুলি লেগে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল ও একটি গাড়িতে করে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। রাতের এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রাউজান উপজেলা বিএনপি সভাপতি জসীম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বুধবার বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শেষে পাঁচ নেতাকর্মী বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইস্তিয়াক চৌধুরী অভি প্রকাশের নেতৃত্বে আলতাফ চৌধুরী টুটুল ও জনি চৌধুরীসহ কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালিয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অভিযানে থাকা অবস্থায় ঘটনার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এর আগে একই দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর হামজারবাগ এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলির ঘটনায় তিনি ও আরও চারজন গুলিবিদ্ধ হন, যাদের মধ্যে একজন মারা যান।
গত ২৫ অক্টোবর রাউজানে প্রতিপক্ষের গুলিতে যুবদল নেতা মো. আলমগীর আলম নিহত হন। এক সপ্তাহ আগে পৌরসভার রশিদরপাড়া এলাকায় গুলির ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। তারও আগে ৭ অক্টোবর হাটহাজারীর মদুনাঘাটে গুলিতে রাউজানের বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিম নিহত হন।
