এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’

জুলাই অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে তিনটি উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি নতুন এক জোটে একত্র হয়েছে। সংস্কার, গণতন্ত্র এবং নতুন রাজনৈতিক বিন্যাস গঠনের প্রতিশ্রুতি নিয়েই তাদের এই যৌথ উদ্যোগ।

বিশেষ প্রতিনিধি :

2 Min Read
'গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে নতুন জোট ঘোষণা। ছবি - এনসিপির ফেসবুক থেকে

জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে তিনটি রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে নতুন রাজনৈতিক জোট ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নতুন জোটে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ তিন দলের নেতারা। এসময় মজিবুর রহমান মঞ্জু নাহিদ ইসলামকে জোটের মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করেন।

নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ঐক্যমত কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া বিভিন্ন শক্তি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জানান, পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতেই এই জোটের যাত্রা শুরু।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশ আগের মতো নয় এবং পুরোনো রাজনীতিতে ফেরার যে আশঙ্কা দেখা গেছে তা দূর করতেই তাদের এই উদ্যোগ। সংস্কারের যাত্রা অব্যাহত রাখতে তারা জনগণকে সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যেই তিন দল এক হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা শুধু এই তিন দলেই সীমাবদ্ধ নয় এবং চব্বিশের অভ্যুত্থান টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর।

নেতারা জানান, গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট আসন্ন নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নিতে চায় এবং নির্বাচনকে শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *