রমজানে বাজারে চাপ: মুরগি ও চিনির দামে ঊর্ধ্বগতি

নিউজনেক্সট অনলাইন :

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read

রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম আবারও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় ব্রয়লার মুরগির দাম ফের ২০০ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে চিনি, পোলাওয়ের চাল ও কিছু মসলার দামও বেড়েছে। তবে ইফতারি পণ্যের মধ্যে লেবু, শসা ও বেগুনের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে একই মুরগি বিক্রি হয়েছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে; মানভেদে বর্তমানে কেজি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, শীতকালে খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। এর সঙ্গে রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। তবে ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজারেও দাম বেড়েছে। বর্তমানে খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১০০ টাকা এবং মোড়কজাত চিনি ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা।

পোলাওয়ের চাল বা চিনিগুঁড়া চালের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ব্র্যান্ডভেদে খোলা চিনিগুঁড়া চাল কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং মোড়কজাত চাল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এসব চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা কম ছিল। তবে সাধারণ চালের দাম গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঈদ সামনে রেখে মসলার বাজারেও দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আলুবোখারার দাম কেজিতে ২৫০ টাকা বেড়ে এখন প্রায় ১ হাজার টাকা। এছাড়া জিরা ও কিশমিশের দাম কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা এবং কাঠবাদাম ও কাজুবাদামের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম বলে অভিযোগ করছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় ডিলাররা মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ তেল সরবরাহ করছেন।

তবে সবজি বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। রোজার শুরুতে হালিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়া লেবু এখন ৪০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দামও কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমেছে।

বাজারের এ পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। অনেক ক্রেতার অভিযোগ, মাছ ও গরুর মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে মুরগিই ছিল তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প। কিন্তু মুরগির দামও বাড়তে থাকায় দৈনন্দিন খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *