দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার কুষ্টিয়া, যশোর, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ ১১ জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়া ও যশোরে। দুই জেলাতেই চারজন করে নিহত হয়েছেন। এছাড়া দিনাজপুরে তিনজন, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় দুজন করে এবং মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, গাজীপুর ও জয়পুরহাটে একজন করে নিহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। পুলিশ জানায়, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভ্যানকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খাদে পড়ে যায়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া এলাকায় কাভার্ড ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হন। পুলিশ জানায়, দ্রুতগতির একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরে সেটি আটক করা হয়।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাসচাপায় দুই কিশোর মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন। স্থানীয়রা ঘাতক বাসটি আটক করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের একজন পথচারী নারী শ্রমিক এবং অন্যজন অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ভবঘুরে যুবক।
এদিকে সিরাজগঞ্জে কোরবানির পশুবাহী নসিমন উল্টে চালক নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, সড়কের বড় গর্তে পড়ে যানবাহনটি উল্টে গেলে তিনি চাপা পড়ে মারা যান।
মানিকগঞ্জে গরুবাহী ট্রাকের চাপায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গাজীপুরে বাস, ট্রাক ও পিকআপের ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ হারান এক পিকআপচালক।
খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। ফরিদপুর ও জয়পুরহাটেও পৃথক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং সড়কের ত্রুটিপূর্ণ অবস্থা দায়ী। বিভিন্ন স্থানে ঘাতক যানবাহন জব্দ করা হলেও কয়েকটি ঘটনায় চালক পালিয়ে গেছেন।
