বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই।
আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তার অনুরোধে জাতীয় সংসদ ভবনে এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,
এই উদ্যোগ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, বরং বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সৌরশক্তির ব্যবহার দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।
তারেক রহমান বলেন, লুই আই কানের নকশায় নির্মিত সংসদ ভবন দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। সেই ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করে সরকার দেখাতে চায়, নেতৃত্ব শুধু নীতিগত ঘোষণায় নয়, বাস্তব কাজেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের মতো বাস্তবতা মোকাবিলায় টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া এখন জাতীয় প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সৌরশক্তির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। দেশের অসংখ্য ভবনের ছাদ, শিল্প এলাকা, খোলা জমি ও উপকূলীয় অঞ্চল নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের জন্য উপযোগী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদেরও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিসহ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
