জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নির্দিষ্টকরণ বিল (২০২৬) কণ্ঠভোটে পাসের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বাজেটে আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্বশেষ বাজেট উপস্থাপিত হয়েছিল ২০০৬–০৭ অর্থবছরে, তখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এম. সাইফুর রহমান।
নতুন বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। বাজেটের মোট আকার সম্ভাব্য জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘৩আর (৩জ) কৌশল’ ঘোষণা করেছেন। এই কৌশলের তিনটি ধাপ হলো—রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন। আগামী এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট কার্যকর করতে অর্থমন্ত্রী সংসদে ২০২৬ সালের নির্দিষ্টকরণ বিল উত্থাপন করেন। বিলের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
এর আগে সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থ বিল, ২০২৬ কয়েকটি সংশোধনীসহ পাস হয়। সংশোধনীগুলোর মধ্যে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করার বিধান উল্লেখযোগ্য।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয়সহ ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির আওতায় নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে কণ্ঠভোটে সব প্রস্তাবই নাকচ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং স্বতন্ত্র সদস্যসহ মোট ৪৩ জন সংসদ সদস্য ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের অনুরোধে স্পিকার গিলোটিন পদ্ধতি প্রয়োগ করে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই একযোগে কণ্ঠভোটে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের সময় বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। বিলটি গৃহীত হওয়ার বিষয়ে তারা কোনো আপত্তি জানাননি।
