প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছাড়াই সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহারের নতুন নির্দেশনার প্রতিফলন দেখা গেল বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এক সরকারি আয়োজনে। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও বিভিন্ন স্থানে পরিবেশবিষয়ক বার্তা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি ছিল না।
বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানস্থলে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যাসংক্রান্ত বিভিন্ন স্লোগান ও বার্তা সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়। তবে অতীতের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানের মতো কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন দর্শনার্থী বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তাঁদের একজন সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সোলায়মান নিলয়। তিনি বলেন, সম্প্রতি সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার নির্দেশনার কথা সংবাদমাধ্যমে দেখেছিলেন। এদিনের আয়োজনে সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন দেখা গেছে বলে তাঁর মন্তব্য।
গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরিপত্রে সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও বার্তা উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেন, সরকারি আয়োজনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এ অনুষ্ঠান তারই প্রতিফলন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরোজা রোজা বলেন, অতীতে অনেক সরকারি অনুষ্ঠানে মূল আয়োজনের চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার বেশি চোখে পড়ত। বর্তমান উদ্যোগে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও বার্তা আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
