বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরে চীনের আগ্রহ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পাট, বস্ত্র, ঔষধ ও সবুজ জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প উদ্যোক্তারা। উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রূপান্তর পরিকল্পনার প্রতি সম্মতি জানিয়ে এ আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াং দোংনিং জানান, অবকাঠামোর পাশাপাশি এখন চীনা বিনিয়োগকারীরা সরাসরি উৎপাদন খাতে প্রবেশ করতে চান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির প্রেসিডেন্ট ড. মা জুন।

ইয়াং দোংনিং বলেন, চীন বাংলাদেশের রুফটপ সোলার, সবুজ জ্বালানি ও পাটভিত্তিক উৎপাদন খাতে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগের সুযোগ দেখছে। বিশেষ করে পাট থেকে বায়োসার, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিকল্প ও জ্বালানি উৎপাদনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করতে চায়। এসব প্রকল্পে এক্সিম ব্যাংক সরাসরি অর্থায়নের পরিকল্পনাও করছে।

ড. মা জুন জানান, পাটশিল্প চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজের আগ্রহ রয়েছে তাদের। তিনি বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে ১০ লাখ টন পর্যন্ত পাট ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনে প্রস্তুত। তাঁর মতে, বাংলাদেশের অব্যবহৃত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোও যৌথ বিনিয়োগে চালু করা সম্ভব।

চীনা আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, উৎপাদন খাত শক্তিশালী করতে এই বিনিয়োগ বাংলাদেশকে আঞ্চলিক রপ্তানি হাবে পরিণত করতে পারে। তিনি বিশেষ করে ওষুধশিল্প ও স্বাস্থ্যসেবাকে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন।

ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম সৌরশক্তি উৎপাদক হিসেবে চীন চাইলে রুফটপ সোলারসহ সবুজ জ্বালানিতে বাংলাদেশকে বিপুলভাবে সহায়তা করতে পারে। তিনি তরুণ কর্মশক্তি, শিল্পায়নের জন্য প্রস্তুত সরকারি কারখানা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত অবস্থানকে চীনা শিল্প স্থানান্তরের বড় সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন।

ইয়াং দোংনিং আরও জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ই-কমার্স খাতেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে চীন। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা চীনা কোম্পানিগুলোকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কারখানা স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলের গভীর সমুদ্রবন্দর ও মিয়ানমার থাইল্যান্ড সীমান্তঘেঁষা বাজার নতুন বাণিজ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

বৈঠকের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা হংকংয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *