রাজধানী ঢাকার বাড়িভাড়া ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন–১৯৯১ অনুসরণ করে প্রণীত এই ১৬ দফা নির্দেশিকায় ভাড়াটিয়াদের অধিকার ও বাড়িওয়ালাদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ডিএনসিসির নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশিকার ঘোষণা দেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে ভাড়া সংক্রান্ত অনিয়ম ও ভাড়াটিয়াদের ভোগান্তি বেড়ে যাওয়ায় একটি সুষম ও ন্যায্য কাঠামো তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো বাসাবাড়ির ভাড়া নির্ধারণের পর অন্তত দুই বছর তা অপরিবর্তিত রাখতে হবে। দুই বছর পার হওয়ার আগে ভাড়া বাড়ানো যাবে না এবং ভাড়া সমন্বয় করা যাবে শুধু জুন ও জুলাই মাসে। এছাড়া ভাড়া বৃদ্ধির হার সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজারদরের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তিন মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে নির্দেশিকায়। অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্পের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ভাড়াটিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছাদ ও মূল ফটকের চাবি দিতে হবে। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময় বাড়িতে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি সুরক্ষিত থাকবে। বাড়ির নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বাড়িওয়ালাকে আগে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে লিখিত নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে লিখিত ভাড়াচুক্তি থাকতে হবে এবং ভাড়াটিয়াকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। এর বিপরীতে বাড়িওয়ালাকে স্বাক্ষরযুক্ত রসিদ প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও বাড়িওয়ালার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
ভাড়াজনিত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সরাসরি উচ্ছেদের পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। ভাড়া পরিশোধে অনিয়ম হলে প্রথমে মৌখিক সতর্কতা এবং পরে দুই মাসের লিখিত নোটিশ দিতে হবে। আবাসিক ভবনের চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষকে কমপক্ষে দুই মাস আগে নোটিশ দিতে হবে।
নির্দেশিকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠনের কথা বলা হয়েছে, যাতে স্থানীয় পর্যায়েই বিরোধের সমাধান সম্ভব হয়। প্রয়োজনে বিষয়টি সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে জনসচেতনতা বাড়াতে শিগগিরই জোনভিত্তিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে।
