বাংলাদেশ ২০২৪ সালে বৈশ্বিক মৎস্যচাষ ও আহরণ খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে।
‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের বৈশ্বিক মৎস্য উৎপাদনের একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ওই বছর বিশ্বে মোট মৎস্য ও মৎস্যচাষ উৎপাদন রেকর্ড ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছায়। এর মধ্যে জলজ প্রাণী উৎপাদন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবাল উৎপাদন ৪ কোটি টন। আগের বছরের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।
এফএওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক মৎস্য উৎপাদনের বড় অংশই আসে এশিয়া থেকে, যার অংশ ৭৬ শতাংশ। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ৮ শতাংশ, ইউরোপ ৭ শতাংশ, আফ্রিকা ৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ২ শতাংশ এবং ওশেনিয়া ১ শতাংশ উৎপাদন করে।
২০২৪ সালে শুধু জলজ প্রাণীর উৎপাদনই সর্বোচ্চ ১৯ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছায়। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ এসেছে মৎস্যচাষ থেকে এবং ৪৭ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের আহরণ থেকে। সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয় মিলিয়ে উৎপাদনের একটি বড় অংশ এশিয়ার দেশগুলোতে কেন্দ্রীভূত।
অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে ২০২৪ সালে ভারতের অবস্থান ছিল শীর্ষে, ২২ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে। ১৪ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে মৎস্যচাষে শীর্ষ পাঁচ দেশ হলো চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। এই দেশগুলো মিলেই বৈশ্বিক মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৮৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
মোট বৈশ্বিক মৎস্য উৎপাদনে চীন একাই ৫৬ শতাংশ জোগান দিয়েছে। এরপর ভারত ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩ শতাংশ উৎপাদন করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলজ খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং চাষভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক মৎস্য খাতে এ ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মৎস্যচাষ খাত থেকে উৎপাদন রেকর্ড ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছায়, যার বড় অংশই এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে।
সামুদ্রিক ও উপকূলীয় চাষেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে মোলাস্ক, পাখনাযুক্ত মাছ এবং খোলসযুক্ত প্রাণীর উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এফএওর এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রোটিন সরবরাহে মৎস্য খাতের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
