দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে ৪৮ শতাংশে, যা গত দেড় দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
আইএমইডির হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকার এডিপির বিপরীতে জুলাই-মে সময়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৬৯ কোটি টাকা। সাধারণত এই সময়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়ে থাকে, সেখানে এবার তা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরের পর এই প্রথম এত কম বাস্তবায়ন হার রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু চলতি বছরই নয়, গত ছয় অর্থবছরের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইএমইডির তথ্যমতে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের বরাদ্দের ২৫ শতাংশেরও কম অর্থ ব্যয় করতে পেরেছে। এমনকি সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের একটি প্রকল্পে বরাদ্দ থাকলেও ১১ মাসে কোনো অর্থই ব্যয় হয়নি।
এ তালিকায় আরও রয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ে কঠোরতা, অর্থ ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতির কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি কমেছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতিও দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির পেছনে রয়েছে একাধিক কাঠামোগত সমস্যা। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প পরিচালনায় দুর্বলতা, ঠিকাদারদের ধীর কাজের প্রবণতা, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং আইনি মামলার কারণে প্রকল্প শুরুতে বিলম্ব।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম দিকে বড় রাজস্ব ঘাটতির কারণে সরকারের নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বাধ্যতামূলক ব্যয় মেটানোর পর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড়ে সতর্কতা অবলম্বন করায় বাস্তবায়নের গতি আরও কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রকল্প অনুমোদনের শুরুতে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ঘাটতি, দরপত্র ও কেনাকাটায় দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক স্তরে জবাবদিহিতার অভাবকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
