সিলিন্ডারে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ, নারায়ণগঞ্জের ডাইং কারখানায় উৎপাদন সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:

3 Min Read

গ্যাস-সংকটে দীর্ঘদিন ধরেই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল নারায়ণগঞ্জের ডাইং শিল্পে। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস সংগ্রহ করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। তবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নতুন নির্দেশনার পর সেই ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার দেড় শতাধিক ডাইং কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

গত ২৬ জুলাই তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক বিধান চন্দ্র মৈত্র স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় সিএনজি স্টেশনগুলোকে যানবাহন ছাড়া খোলা সিলিন্ডার বা ক্যাসকেড সিলিন্ডার বহনকারী কাভার্ড ভ্যান ও লরিতে সিএনজি সরবরাহ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, এ ধরনের সরবরাহ বাংলাদেশ গ্যাস আইন ও গ্যাস বিপণন বিধিমালা–২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ।

নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন শিল্পকারখানার জন্য সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার বিকেলে নগরের নতুন জেলখানা এলাকার একটি সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ডাইং কারখানার সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান গ্যাস না পেয়েই ফিরে যাচ্ছে। গাড়িটির চালক রফিকুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিন ধরেই গ্যাস পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল। সোমবার স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, সরকারি নির্দেশনার কারণে আর সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়া হবে না।

ওই সিএনজি স্টেশনের প্রকৌশলী সৈয়দ এলতাজ হাসান বাদশা বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই এভাবে গ্যাস সরবরাহ করত না। নতুন সরকারি নির্দেশনার বিষয়টিও আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, গ্যাসের স্বল্পতার কারণে বর্তমানে অনেক কারখানায় দিনে গড়ে তিন ঘণ্টাও উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ডাইং প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলে কাপড়ের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, এত দিন সিলিন্ডারে সিএনজি এনে অনেক কারখানা সীমিত আকারে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সমিতিভুক্ত প্রায় দেড় শতাধিক কারখানার অধিকাংশের উৎপাদন প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে অনেক কারখানা সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল অ্যান্ড ওভেন ডাইং লিমিটেড কয়েক বছর আগে থেকেই বায়োমাস, বিশেষ করে ধানের তুষকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুব খান হিমেল বলেন, দীর্ঘদিনের গ্যাস-সংকটের কথা বিবেচনায় রেখে তারা আগেই বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করেছিলেন। ফলে তাদের উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে পাইপলাইনে গ্যাসের স্বল্পতা এবং সিলিন্ডারে সিএনজি সংগ্রহের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার অধিকাংশ ডাইং কারখানা এখন কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *