ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে সংস্থাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর এ আদেশ জারি হলেও বিষয়টি মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হচ্ছে।
ডিএনসিসির জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, অঞ্চল-১ এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, অদক্ষতা এবং দুর্নীতির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিধি মোতাবেক চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হলেন। বরখাস্তের সময় তিনি নিয়ম অনুযায়ী খোরাকিভাতা পাবেন।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ডিএনসিসির প্রশাসককে ঘুষের প্রস্তাব দেন মিজানুর রহমান। তিনি উপকর কর্মকর্তা পদে পদায়নের বিনিময়ে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। সরাসরি ঘুষ প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।
ডিএনসিসি সম্প্রতি উপকর কর্মকর্তা পদে (নবম গ্রেড) কয়েকজনকে পদায়ন করেছে, যেখানে ১৬ থেকে ১৪ গ্রেডের কর্মচারীরাও পদ পেয়েছেন। এ পদে যোগ দেওয়ার আগ্রহ থেকেই মিজানুর রহমান এ ধরনের প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে।
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় মিজানুর রহমান লিখেছিলেন, “স্যার, আমি মিজানুর রহমান, বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (অঞ্চল-১, উত্তরা)। স্যার, কাজটি করে দিলে আপনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকব। আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে এক লাখ টাকার উপহার আছে। চাইলে নগদও দিতে পারি, কেউ জানবে না।”
অভিযোগ বিষয়ে যোগাযোগ করলে মিজানুর রহমান বলেন, ঘুষের প্রস্তাবের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তবে কেন করা হয়েছে তা নিশ্চিত নই।
তবে উত্তর সিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি ইতোমধ্যে প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে ক্ষমা চেয়েছেন।
