জবির শিক্ষার্থীদের রাজপথে রাত, তিন দফা দাবিতে অনড় অবস্থান

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:

3 Min Read
কেউ শুয়ে, কেউ বসে, কেউবা গান, কবিতা আর স্লোগানে রাস্তাতেই রাত কাটিয়েছেন, ছবি - নিউজনেক্সট।
নিরাপদ আবাসন ও পূর্ণাঙ্গ বাজেটসহ তিন দফা দাবিতে মঙ্গলবার (১৪ মে) রাতভর রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে মসজিদের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কেউ শুয়ে, কেউ বসে, কেউবা গান, কবিতা আর স্লোগানে অংশ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। রাস্তাতেই রাত কাটিয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র ফ্রন্ট এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্যরা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না। এক শিক্ষার্থী বলেন, “মার যখন খেয়েছি, মাইর আরও খাব; কিন্তু অধিকার আদায় না করে ক্যাম্পাসে ফিরব না।”

জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে সব সংগঠন রয়েছে। কাকরাইল মসজিদের ভেতরে এবং বাইরে বিপুল সংখ্যক ছাত্র অবস্থান করছে। তারা বিপ্লবের গান গেয়ে সময় পার করছে। আন্দোলনের ফয়সালা রাজপথেই হবে। ছাত্রশিবিরের শাখা সভাপতি আসাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের দাবি ন্যায্য। পুলিশ যেভাবে নির্যাতন করেছে তা বর্বরতা। আমরা দাবি আদায় না করে ফিরব না। ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি রাকিব বলেন, যেহেতু আমরা রাজপথে নেমেছি, অধিকার আদায় না করে ফেরা নয়। প্রয়োজনে আরও মার খাব, কিন্তু দাবি না মানা পর্যন্ত এখানেই থাকব।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে রাজপথে রাত কাটিয়েছেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন এবং ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া রাত ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। এছাড়া রাত ২টা পর্যন্ত প্রক্টরসহ অন্যান্য শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় থাকলে আমি ঘরে থাকতে পারি না। আমাদের দাবি যৌক্তিক।”

শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ভাতা চালু করতে হবে; প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কোনো ধরনের কাটছাঁট ছাড়াই অনুমোদন করতে হবে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন দিয়ে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লংমার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গুলিস্তান ও মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মোড়ে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও গরম পানি নিক্ষেপ করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে। পরে লাঠিচার্জও চালায়। এতে শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন।

রাতে প্রধান উপদেষ্টা মাহফুজ আন্দোলনকারীদের সামনে এসে বক্তব্য দিতে চাইলে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা “ভুয়া ভুয়া” স্লোগানে মাহফুজকে উদ্দেশ করে অসন্তোষ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ভিড় থেকে একজন বোতল ছুড়ে মারেন। মাহফুজ তখন বক্তব্য বন্ধ করে রাগ করে সরে যান।

তার বক্তব্যে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা রাতেই সিদ্ধান্ত নেন যে, তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। ফলে কাকরাইল মসজিদের সামনেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলেও ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *