জেন-জি’র বিপ্লবের ভাষা: আপাতত রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের টাটা, গুড বাই!

3 Min Read
১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তেজগাঁওয়ে এক সভায় শেখ মুজিব। ছবি - ইন্টারনেট থেকে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি সাময়িক নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত বছরের (২০২৪) জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর পর এ নিয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জানালো নতুন শাসকগোষ্ঠী।

শনিবার (১০ মে) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

যমুনার সামনে রাত ১১টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা–কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে। একইসঙ্গে বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে, তা তরুণ প্রজন্মের গণদাবি থেকে আলাদা কিছু নয়। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আপাতত স্থগিত করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।

ঘোষণাটি প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। ‘টাটা, গুড বাই আওয়ামী লীগ’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে শাহবাগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এবং সংলগ্ন এলাকা।

গত বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে টানা কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরদিন ইন্টারকন্টিনেন্টালের মোড় এবং পরে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ), ইনকিলাব মঞ্চ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ একাধিক সংগঠন।

শনিবার বিকেলে শাহবাগ মোড় থেকে হাসনাত এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের রোডম্যাপ না এলে আমরা ‘মার্চ টু যমুনা’ শুরু করব, এই চাপের মুখে দ্রুতই উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে।

- Advertisement -

আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটা কেবল শুরু। দেশে রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জেনারেশন-জেড তাদের ‘ঐতিহাসিক দায়িত্ব’ পালন করছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *