ঝালকাঠিতে ভুয়া সনদে চাকরি: সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :

2 Min Read

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষা অধিদপ্তর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

অভিযোগকারী মো. হাসানুর রহমান মিলু লস্কর শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, আলমগীর হোসেন ঝালকাঠি পৌরসভা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমতি ছাড়াই ২০০৭ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এড. ও ২০০৮ সালে এম.এড. ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে আদালত ও সরকার উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব সনদ অবৈধ ঘোষণা করলেও তিনি তা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে বহাল থেকেছেন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা নিয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালে ওই সনদকে ভিত্তি করে তিনি নথুল্লাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান এবং এমপিওভুক্ত হন। যদিও ২০২০ সালে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন করে বি.এড. সম্পন্ন করেন, কিন্তু ২০২৪ সালে শিক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা পরিদর্শনে সেই সনদ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।

বিষয়টি তদন্তে নিতে শিক্ষা অধিদপ্তর গত ২০ আগস্ট একটি স্মারক জারি করে (স্মারক নং: ৩৭.০২.০০০০.১০৭.৩১.৩৯১.২০২৫-১৬৮৭)। এতে ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিসারকে অভিযোগটি তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, অভিযুক্ত শিক্ষক এবং অভিযোগকারীকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মিলু লস্কর বলেন, “ভুয়া সনদ ব্যবহার করে একজন শিক্ষক চাকরি করছেন—এটি সরকারের অর্থের অপব্যবহার। পাশাপাশি তিনি ক্লাসে অনমনোযোগী এবং শিক্ষার্থীরাও তার পাঠদানে অসন্তুষ্ট। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা আশা করছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। চাকরিজীবনের প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছি এবং সব ডকুমেন্ট সংরক্ষিত আছে। তদন্ত হলে সত্য প্রকাশ পাবে। তদন্তের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত আসবে, আমি সেটি মেনে নেব।”

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *