দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব অভিযোগ নতুন করে সামনে আসছে। বিশেষ করে গত দেড় দশকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে সংঘটিত অনিয়মের বিষয়গুলো এখন বিভিন্ন অনুসন্ধান ও তদন্তে প্রকাশ পাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা সার্কেল-৩, ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিতর্কিত স্থানে পদায়ন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউ এলাকায় প্রায় ২২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে তার, যার বাজারমূল্য আনুমানিক সাড়ে তিন কোটি টাকা। এছাড়া কিশোরগঞ্জের ইটনা এলাকায় জমি এবং পূর্বাচলে প্রায় ২০ কাঠা প্লট থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা একসময় অত্যন্ত সীমিত ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, সরকারি চাকরির বেতনের সঙ্গে এই সম্পদের কোনো সঙ্গতি নেই। তারা দাবি করছেন, বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমেই এই সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, সার্কেল-৩-এর আওতাধীন টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় জুবায়ের বিন হায়দারের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয়ে কারসাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া প্রায় ১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের বিল পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। কাজের মান নিয়ন্ত্রণ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বিল প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির বিষয়গুলোও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের অর্থের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি তা প্রমাণভিত্তিকভাবে সামনে আসছে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রকৌশলী জুবায়ের বিন হায়দারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগগুলো গুরুতর। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো সরকারি কর্মকর্তার আয়-ব্যয়ের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই-বাছাইয়ের পর তদন্ত করা হয়। এই অভিযোগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
