ওয়াসায় দুর্নীতি, নিয়োগ–বদলির কেন্দ্রবিন্দুতে উপসচিব নুরুজ্জামান মিয়াজী

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read

ঢাকা ওয়াসায় দীর্ঘদিন সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকার সুযোগে আউটসোর্সিং কর্মচারী বদলি ও নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম এবং কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসন বিভাগের উপসচিব নুরুজ্জামান মিয়াজীর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়েছেন।

ওয়াসার একাধিক সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে প্রায় ২০০ আউটসোর্সিং কর্মচারীর বদলি এবং অন্তত ৪০ জন বিলিং সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কথিত সিবিএ নেতা আজিজ ও মনির এই কর্মকাণ্ডে নুরুজ্জামান মিয়াজীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা ওয়াসার একজন উপসচিব বলেন, প্রশাসন বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখায় একজন বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ওয়াসায় দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ওয়াসা–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, নুরুজ্জামান মিয়াজী সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার সময়েই নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জন করেন। অতীতে ঘুষ–সংক্রান্ত অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হলেও রাজনৈতিক তদবিরে তিনি পুনরায় চাকরিতে ফেরেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকলেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি বর্তমান পদে আসীন হন। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ না পেলে তিনি ফাইল আটকে রাখেন এবং এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশও উপেক্ষা করেন।

ওয়াসার ভেতরের আরেকটি সূত্র জানায়, নুরুজ্জামান মিয়াজীর নামে–বেনামে প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়িসহ বিপুল স্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করলে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে এই কর্মকর্তাকে ঘিরে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপি–ঘনিষ্ঠ একটি কর্মচারী সংগঠনের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সংগঠনের নেতাদের সহায়তায় তিনি আগের মতোই নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকর্তা–কর্মচারীকে হুমকি, ব্ল্যাকমেইল এবং অনলাইন মাধ্যমে বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সামাজিক ও প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অভিযোগ সম্পর্কে ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও চাপ ও প্রভাবের কারণে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি দুদকে দায়ের করা একটি অভিযোগে নুরুজ্জামান মিয়াজীর বিরুদ্ধে অতীত ও বর্তমান অনিয়ম–দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *