​বকেয়া পাওনার দাবিতে নাভানা ইলেকট্রনিক্সের সাবেক কর্মচারীদের মানববন্ধন

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read
ছবি - সংগৃহীত।

​চাকরি থেকে অব্যাহতির ৩ থেকে ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত পাওনা বা ফাইনাল সেটেলমেন্ট না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নাভানা ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড ও নাভানা গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোডে অবস্থিত ‘নাভানা টয়োটা 3S সেন্টার’-এর সামনে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে শত শত নিরীহ শ্রমজীবী মানুষ এখন রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

​কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল দাবি ও ক্ষোভ:

​মানববন্ধনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা জানান, বিগত ৩ থেকে ৬ বছর আগে নাভানা কনস্ট্রাকশন, নাভানা ইলেকট্রনিক্সসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল সংখ্যক সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত বা অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের আইনসম্মত প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি বা কোনো প্রকার ফাইনাল সেটেলমেন্ট দেওয়া হয়নি।

​আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে কেউ লেবার অফিসে অভিযোগ করতে গেলে, কিংবা পাওনা দাবি করলেই ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নাভানা গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেফতারের ঘটনায় সাধারণ কর্মচারীরা এখন সাহস করে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

​শীর্ষ ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা পাচারের গুরুতর অভিযোগ:

​বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মীদের দেনা-পাওনা পরিশোধ না করে মানবেতর জীবনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মালিকপক্ষ ও শীর্ষ ম্যানেজমেন্টের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিদেশে কোটিপতির বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

​বক্তব্য ও অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, নাভানার এসভিসি সাইফুল ইসলাম সুমন ও ভিসি সাজেদুল ইসলাম শুভ্র দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা হুন্ডি এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন। এই বিপুল অর্থ পাচারের প্রক্রিয়ায় নাভানার হেড অফ ট্রেজারী মোস্তফা জাহিদ, জিএম ফিনান্স এন্ড একাউন্টস শাহাদাত ও জাকারিয়া, এবং কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্সের জিএম পাভেল ও আরিফ সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে মানববন্ধনে অভিযোগ তোলা হয়। নাভানার মানব সম্পদ বিভাগের জিএম ফারজানা ইয়াসমিন এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও পাওয়া যায় নি। এসব কর্মচারীর পাওনা পরিশোধে তার ভূমিকা খুবই প্রশ্নবিদ্ধ ?

​মিডিয়া রিপোর্টে উঠে আসা মূল দাবিসমূহ:

​১. অবিলম্বে চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধ: নাভানা ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের চাকরিচ্যুত বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পূর্ণ ফাইনাল সেটেলমেন্ট অবিলম্বে বুঝিয়ে দিতে হবে।
২. মিথ্যা মামলা ও হয়রানি প্রত্যাহার: অতীতে পাওনা চাওয়ার কারণে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যেসকল হয়রানিমূলক ব্যবস্থা বা মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও জবাবদিহিতা: ব্যাংকের ঋণ ফাঁকি দিয়ে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বঞ্চিত করে যে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে, তা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

- Advertisement -

বিক্ষুব্ধ সাবেক কর্মচারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট শ্রম অধিদপ্তর, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার কাছে এই অসহায় ও নিরীহ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের জীবনের শেষ সম্বলটুকু উদ্ধার করে দেওয়ার তীব্র আকুতি জানিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *