জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস প্রশাসনের এক কর্মকর্তার পদোন্নতিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট ব্যান্ডরোল জব্দের ঘটনায় অভিযোগের মুখে থাকা এক কর্মকর্তাকে সম্প্রতি যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি কার্গো চালান থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল সিগারেট ব্যান্ডরোল জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব জাল ব্যান্ডরোল বাজারে প্রবেশ করতে পারলে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে মূল পরিকল্পনাকারীদের পরিবর্তে কেবল কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও কয়েকজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাস্টমসের উপকমিশনার (ডিসি) মো. শামীম উল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠলেও তাঁকে মামলার আসামি করা হয়নি।
এর মধ্যেই গত ২২ জুন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে শামীম উল আলমকে যুগ্ম কমিশনার (গ্রেড-৫) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ পদোন্নতি নিয়ে কাস্টমস প্রশাসনের একাংশে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
কাস্টমসের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তদন্তাধীন বা অভিযোগের মুখে থাকা কোনো কর্মকর্তার পদোন্নতি প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাঁদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ ধরনের পদোন্নতি বিতর্ক সৃষ্টি করাই স্বাভাবিক।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, কাস্টমস প্রশাসনে একটি প্রভাবশালী কর্মকর্তা-গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বদলি ও পদোন্নতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। এই গোষ্ঠীর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব এবং এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তার নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, একই সময়ে বিসিএস ২৯তম ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তা পদোন্নতি না পেলেও অভিযোগের মুখে থাকা কর্মকর্তা পদোন্নতি পাওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. শামীম উল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
একইভাবে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শেলিনা খানমের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজস্ব প্রশাসনের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, তদন্তে কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন। এতে রাজস্ব প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা বজায় থাকবে।
