সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিসিবির কাছে বিভিন্ন তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ১ জুলাই বিসিবির বর্তমান সভাপতির কাছে এ–সংক্রান্ত তিনটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মো. সাইদুজ্জামান।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এ অনুসন্ধানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র চেয়ে বিসিবিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
দুদকের এক চিঠিতে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) অনুমোদনের নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, চুক্তিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।
আরেকটি চিঠিতে বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যাদেশ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের তথ্য, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম), তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট বাছাই, পরিচালনা পর্ষদের সভার কার্যবিবরণী, ২০১২–১৩ থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবছর পর্যন্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন, বিসিবির অর্থায়নে বিদেশ সফর করা কর্মকর্তা–কর্মচারীদের তালিকা এবং হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তৃতীয় চিঠিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় থেকে একাদশ আসর পর্যন্ত টিকিট বিক্রির দরপত্র, বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য, আয়-ব্যয়ের হিসাব, মুজিব শতবর্ষ উদ্যাপনের ব্যয়ের বিবরণ, ২০০৮ সাল থেকে বিসিবির সভাপতি, পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের তথ্য এবং টিকিটিং, ক্রয়, অর্থ ও লজিস্টিকস–সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়েছে।
চিঠিগুলোতে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
নাজমুল হাসান পাপন কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ৫ মে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে নাজমুল হাসান পাপন এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে দুদক।
