রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি আংশিকভাবে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে নগরের বন্ধগেট এলাকায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট রাজশাহী শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গ্রহণ না করায় এখন পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম চালু হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
শিশু হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রায় ৭০০ রোগী ভর্তি থাকছে প্রতিনিয়ত। শুধু রাজশাহী নয়, রংপুর ও খুলনা বিভাগ থেকেও শিশুরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসে।
রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য রয়েছে মাত্র ১২টি আইসিইউ শয্যা। এসব শয্যার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা থাকে; অনেক ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৫০ জন রোগীর পর সিরিয়াল আসে। ফলে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউর চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় নতুন শিশু হাসপাতাল চালু হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন হাসপাতালেও ১২টি আইসিইউ শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্বাস্থ্যসচিব জানান, যেসব হাসপাতালের অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে- সেগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
