কঠোর মুদ্রানীতি বাজেটের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যে বাধা হতে পারে: ডিসিসিআই

নিউজনেক্সট অনলাইন :

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read

বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে এলেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকলে নতুন ঘোষিত প্রবৃদ্ধিমুখী জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য সুফল অনেকটাই ক্ষুণ্ন হতে পারে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, টানা চার বছর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা অনুযায়ী কমেনি। বরং চলতি বছরের মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নেই। ফলে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নীতি সুদহার উচ্চ পর্যায়ে থাকায় ঋণের ব্যয়ও কমছে না, যা বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য বড় বাধা।

ডিসিসিআই বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এ তহবিলের স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তা, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং উৎপাদন খাতকে সহজ শর্তে ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় এ তহবিলের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা প্রদান প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে ডিসিসিআই।

বিবৃতিতে সরকারি ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ডিসিসিআইর মতে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের সীমিত তারল্যের বড় অংশ সরকারি খাতে চলে যাচ্ছে এবং বেসরকারি খাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

জাতীয় বাজটে ঘোষিত কর ও রাজস্ব সুবিধা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, ব্যবসায়ীরা যদি সাশ্রয়ী সুদে পর্যাপ্ত অর্থায়নের সুযোগ না পান, তাহলে এসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। তাই বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারিখাতনির্ভর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *