যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিউবার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি এবং বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ট্রাম্প অতীতে কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে মন্তব্য করেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বড় ধরনের উপস্থিতি রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের সক্ষমতা তৈরি করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি নজরদারি বিমান ও ড্রোনও দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানের ক্ষেত্রে কিউবার স্থল লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা বিমান হামলার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান চালাতে হলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন প্রয়োজন হবে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিকে “চরম সংকট” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ছে এবং জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে।
