যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে একটি কাগজ উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার লংভিউ শহরের একটি কাগজ কারখানায় বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ও ক্ষারীয় রাসায়নিক ভর্তি একটি ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা বিভাগ।
লংভিউ ফায়ার বিভাগের প্রধান ব্র্যাড হ্যানিগ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিখোঁজদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আরও দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, এখনও নিখোঁজ থাকা তিনজনও মারা গেছেন। তবে তাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে জাপানি প্রতিষ্ঠান নিপ্পন পেপার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিংয়ের কারখানায়। কর্মকর্তারা জানান, ভোরের শিফট পরিবর্তনের সময় প্রায় ৯ লাখ গ্যালন ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংক হঠাৎ ফেটে যায়। ট্যাংকটিতে ‘হোয়াইট লিকার’ নামে পরিচিত রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণ করা ছিল।
হোয়াইট লিকার মূলত সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইডের মিশ্রণে তৈরি এক ধরনের তীব্র ক্ষারীয় দ্রবণ, যা কাঠ প্রক্রিয়াজাত করে কাগজ তৈরির মণ্ড প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়।
ফায়ার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। তবু উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় বাতাস ও পানিতে কোনো ধরনের দূষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। লংভিউ সিটির জনকল্যাণ বিভাগের পরিচালক ক্রিস কলিন্স বলেন, শহরের পানি নিরাপদ রয়েছে।
মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণে উদ্বেগজনক মাত্রার কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা বায়ুদূষণ শনাক্ত হয়নি।
নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর প্রায় ৮০০ কোটি একক-ব্যবহারযোগ্য কন্টেইনার উৎপাদন করে থাকে। তাদের পণ্য উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়।
