পশ্চিমবঙ্গের এক তৃণমূল কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করেই আক্রমণ চালিয়েছে।
শনিবার নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অভিষেক। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, হামলার সময় তাঁর চশমা ভেঙে যায়। তবে মাথায় হেলমেট থাকায় বড় ধরনের আঘাত এড়াতে পেরেছেন।
অভিষেক বলেন, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল তাঁকে আঘাত করা। তিনি দাবি করেন, তাঁর উপস্থিতির কারণে নিহত কর্মীর পরিবারের ওপরও নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাড়ির বাইরে অবস্থানকারী বিক্ষোভকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় পর্যাপ্ত পুলিশি উপস্থিতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের এই নেতা।
অভিষেক বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি।
এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন একটি অভিযোগও সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে দলীয় বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ এনে একটি চিঠি বিধানসভায় জমা পড়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ অভিযোগের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার দুপুরে সিআইডির একটি দল কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যায়। তবে সেখানে তাঁকে বা তাঁর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সিআইডি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ওই সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিংবা সিআইডি তদন্তের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
