ইডিসিএল এমডি সামাদ মৃধার পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি

সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এ দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সামাদ মৃধা ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইডিসিএল’র চাকরিচ্যুত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মানববন্ধন।

সরকারি মালিকানাধীন ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) বিনা অপরাধে চাকরিচ্যুত প্রায় সাতশ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার পুনর্বহাল এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুস সামাদ মৃধার পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইডিসিএলের চাকরিচ্যুত কর্মীরা মানববন্ধন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন চাকরিচ্যুত রানা, কাউসার মিয়া, জামিল, কাউসার আহমেদ, সজীব ও মাসুদ প্রমুখ।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন হলেও এমডি আবদুস সামাদ মৃধার যোগদানের পর থেকে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি যোগদানের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গোপন করে দ্রুত পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করেন। এরপর তার ব্যক্তিগত পিএস নাজমুল হুদা, ভাগনে শওকত ও জিএম মনিরুল ইসলামের মাধ্যমে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণে ব্যাপক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য চালু করেন।

চাকরিচ্যুতরা অভিযোগ করেন, ছাঁটাই হওয়া অ্যাডহক ও ক্যাজুয়াল কর্মীদের পুনরায় নিয়োগে প্রতি জনের কাছ থেকে ৫-১০ লাখ টাকা, স্থায়ী করার ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই ৭৫-৮০ জনের কাছ থেকে ৩-৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। পদোন্নতিতে বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই ৫০ জনের বেশি কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন এবং অনেকের কাছ থেকে ২-৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ কোটি টাকার কমিশনের বিনিময়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত রাখা হয়েছে, যা বোর্ডের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি।

তারা আরও জানায়, সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-৮, ঢাকা-তে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা (পিটিশন নং ১০২/২০২৫) দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু এখনও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চাকরিচ্যুতরা দাবি করেন, এমডির অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে তাকে দ্রুত গ্রেফতার এবং পদত্যাগ নিশ্চিত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, সরকারি মালিকানাধীন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) দুর্নীতি, অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এমডি মো. এ. সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, টেন্ডার বাণিজ্য, ছাঁটাই ও স্থায়ীকরণ বাণিজ্য, নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন এবং অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে খুলনা ল্যাটেক্স প্ল্যান্টের বার্ষিক পিকনিক আয়োজনের নামে ৩৭ লাখ টাকার খরচের ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়। ২৭৪ কেজি মাছ, হাজারখানেক পানীয়, সিগারেটসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনা হলেও কর্মচারীরা খাওয়ার সময় পায়নি।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংযোগে ঠিকাদারি ব্যবসা ও দরপত্র কারসাজি চলে। এমডি মো. এ. সামাদ মৃধা, তার ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হুদা ও জিএম নজরুল ইসলাম এসব কাজে জড়িত। কাস্টমসেও সন্দেহজনক কেমিক্যাল রোল আনার ঘটনা ধরা পড়ে।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসব অনিয়ম প্রতিষ্ঠানকে সরকারের স্বায়ত্তশাসিত একমাত্র ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিতর্কিত করেছে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *