পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১২৫ শিক্ষক আহত, অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতির ঘোষণা

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আন্দোলন চলাকালে শতাধিক আহতকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগই টিয়ারগ্যাসে শ্বাসকষ্ট, মাথায় আঘাত বা হাত-পা ঘষে যাওয়ার মতো চোট পেয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

দশম গ্রেডে বেতন, চাকরির উচ্চতর গ্রেড ও শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর শনিবার ঢাকায় পুলিশের তৎপরতায় অন্তত ১২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শিক্ষক নেতারা আহতদের তালিকা তৈরি করছেন।

সকাল থেকে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করা শিক্ষকেরা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ‘কলম বিরতি কর্মসূচি’ পালন করতে শাহাবাগের দিকে মিছিল করলে পুলিশ তাদের ৪টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে আটকে দেয়। পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও লাঠি চার্জে কর্মসূচি পণ্ড হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে, যদিও পুলিশ কাউকে আটক করা হয়নি দাবি করছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। ডিএমপির উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, পুলিশের পদক্ষেপ জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের তিন দাবি:

দশম গ্রেডে বেতন নিশ্চিত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতা নিরসন, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি ঘোষণা

অধিকার আদায় ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনরত সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থানের পাশাপাশি সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চলবে।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ।

উল্লেখ্য, ঢাকায় আন্দোলন চালাচ্ছে চারটি শিক্ষক সংগঠন: ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন)’, ‘প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ’, ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি’ এবং ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি)’।

- Advertisement -

সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে অন্য একটি সংগঠন ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের কাছে দাবি আদায় না হলে ২৩-২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫-২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশনও শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *