মাথায় গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এভারকেয়ারে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রওনক আলম।
এর আগে ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান জানান, ‘সরকারের সিদ্ধান্তে’ হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ারে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, হাদির মাথায় গুলি রয়ে গেছে। তার বুকে ও পায়ে আঘাত আছে, যা রিকশা থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা হাদির ওপর হামলা চালায়। বাম কানের পাশে লক্ষ্য করে গুলি করলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান। হামলাকারীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত সরে যায় বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হলে জরুরি বিভাগের সামনে ভিড় জমে যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন হন। চিকিৎসক সাব্বির হোসেন সাগর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হাদির জিসিএস মাত্র ৩ এবং দু’চোখের পাপড়ি বিস্তৃত—যা চিকিৎসকদের ভাষায় ‘ব্রেইন ডেথ’-এর ইঙ্গিত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “অলৌকিক কিছু ঘটলে তিনি ফিরে আসতে পারেন।”
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাদি লিফলেট বিলির কর্মসূচি শেষে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার কথা থাকলেও পথেই হামলার শিকার হন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস বিকাল ৪টার দিকে হাসপাতালে তাকে দেখতে যান। জামায়াতের প্রার্থী হেলাল উদ্দিন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী সাইফুল হকও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মূল উদ্যোক্তা হওয়ার আগে ওসমান হাদি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি সাংস্কৃতিক–রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরেন এবং জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবও দেন।
হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পল্টন থানার ওসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, “কারা কেন হামলা করেছে আমরা তা অনুসন্ধান করছি। হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে।”
