ইরানে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। দেশটির ২৪টি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এর আগে ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযানকে ‘ইতিহাসের বৃহত্তম বিমান হামলা’ বলে দাবি করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীের বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একযোগে আঘাত হেয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, হামলায় প্রায় ৫০০ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থান। এছাড়া ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ইরানের তাবরিজে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের স্থানও লক্ষ্য করেছে।
এই হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে পড়ার পর হঠাৎ করেই ইরানে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ হামলায় দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টির বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত সংলাপে ফেরার তাগিদ দেয়।
