পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে পড়ার পর হঠাৎ করেই ইরানে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ হামলায় দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টির বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত সংলাপে ফেরার তাগিদ দেয়।
এর আগে রাশিয়াও হামলার তীব্র সমালোচনা করে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পরিস্থিতিকে সামরিক পথ থেকে সরিয়ে দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নিতে হবে। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলে, এ ধরনের আগ্রাসন পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের’ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের আহ্বানও জানায় মস্কো।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দিমিত্রি মেদভেদেভ অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযানের আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা ছিল কেবল একটি আড়াল। টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সদিচ্ছা ছিল না।
অন্যদিকে হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত শুরু করেছে ইরান। দেশটির ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবরও মিলেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। দেশজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমান বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে, তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নির্ভুল নয় বলে সতর্ক করেছে তারা।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, শত্রুকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে হামলার সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
