ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে দেশজুড়ে প্রায় চারশ টির বেশি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। তবে বড় ধরনের সংঘাত বা রক্তক্ষয়ী সহিংসতা না থাকায় নির্বাচনকে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) । তবে নির্বাচনের পরে কিছু সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা সংস্থার উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনকেন্দ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম ও প্রোগ্রাম অফিসার সাইফুল ইসলাম। তারা দুই পৃথক প্রতিবেদনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও কেন্দ্রগুলোতে ৩৯৩টি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছেঃ কেন্দ্রভিত্তিক বিশৃঙ্খলা – ১৪৯টি, সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ – ১০৫টি, ব্যালট স্টাফিং – ৫৯টি, পোলিং এজেন্ট অপসারণ – ১৯টি, নির্বাচনী কর্মকর্তার গাফিলতি – ১৩টি, ভোটারদের বাধা প্রদান – ১৮টি, প্রার্থীর ওপর হামলা – ৬টি, ব্যালটবক্স ছিনতাই – ৩টি, অগ্নিসংযোগ – ২টি, অন্যান্য অনিয়ম – ৩১টি।
এছাড়া ভোটের দিন সংঘর্ষে ১৪৫ জন আহত, সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ৫ সাংবাদিক আহত এবং ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নির্বাচনে মোট ৬৪টি এআই (অপতথ্য) প্রচার হয়েছে।
এছাড়া গত সাড়ে ৪ মাসে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে ৭০০-এর বেশি সহিংসতায় ১০ জন নিহত ও ২,৫০৩ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনী সহিংসতায় অন্তত ৩৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ২৫৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৫ জন নিহত ও ১,৬৫০ জন আহত হয়েছেন।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় তিনটি পৃথক ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটে দুই যুবক এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক শিশু নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ৩০ জেলায় দুই শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
নারী নির্যাতনও প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য; তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৩২টি ঘটনায় ৪৫ জন নারী হেনস্থা ও ২৩ জন নারী আহত হয়েছেন।
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিনে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত না ঘটলেও এই ধরনের সহিংসতা এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশে উদ্বেগজনক এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের উদ্যোগের দাবি তুলে ধরে।
