বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।’
রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঢাকার মিরপুর-১০ গোলচত্বরসংলগ্ন সেনপাড়া–পর্বতা এলাকার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-১৫ আসনে এটি ছিল তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনের প্রধান কর্মসূচি।
তারেক রহমান বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের নির্বাচন নয়; এটি হতে হবে দেশ পুনর্গঠনের এবং মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের নির্বাচন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলটি নারীদের অধিকার, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ, বেকারত্ব নিরসন এবং স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মেয়েদের শিক্ষা বিনা খরচে চালু করা হয়েছিল, যার ফলে বর্তমানে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েরা বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারেক রহমান জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
বিদেশগামী শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসে চাকরির জন্য যাতে কাউকে জমি বিক্রি করতে না হয়, সে জন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষি খাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে।” এ লক্ষ্যেই কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে। ঢাকা-১৫ এলাকার জন্য একটি হাসপাতাল স্থাপনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ১০০ ফুট সড়কের কাজ দ্রুত শুরুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই— বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা। এই দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা।”
তিনি জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সেই ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে একটি প্রত্যাশিত, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পথসভা শেষে তারেক রহমান ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১১ আসনে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা জানান। এর আগে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের ইসিবি চত্বর থেকে প্রচারণা শুরু করেন এবং পল্লবীতে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক –এর পক্ষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
