এসএসএফ নয় তারেক রহমানকে ‘কভার্ট–ওভার্ট’ ব্যবস্থায় সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read
ফাইল ছবি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন। তবে দেশে ফেরার পর আপাতত তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সুবিধা পাচ্ছেন না। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট’ অর্থাৎ প্রকাশ্য ও গোপন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট জোন। রেড জোনে প্রবেশের জন্য বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড বাধ্যতামূলক, ইয়েলো জোনেও আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। হোয়াইট জোনে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রায় দুই হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকতে পারেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তারেক রহমান সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন বলে জানা গেছে। সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিমানবন্দর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত রুট, গুলশানে তাঁর বাসভবন ও কার্যালয় সবকিছুই বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। খিলক্ষেতের ৩০০ ফিট এলাকায় যেখানে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে এবং এভারকেয়ার হাসপাতাল দুই স্থানেই সুইপিং কার্যক্রম চালানো হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবে সেনাবাহিনীও। তবে তারেক রহমানকে এসএসএফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে তারেক রহমানের নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের উচ্চপর্যায়েও একাধিক বৈঠক হয়েছে। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসএফ নিরাপত্তার আবেদন জানালেও সরকার এখনো সে বিষয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত নেয়নি। সরকারের সংশ্লিষ্টদের মতে, তিনি বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রীয় পদে নেই, যা এসএসএফ না দেওয়ার অন্যতম যুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির আশঙ্কায় লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইট বিজি-২০২-এর দুই কেবিন ক্রুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ফ্লাইটেই ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। ২৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন।

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য জনসমাগম বিবেচনায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) কিছু এলাকায় গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। উত্তরা, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, টঙ্গী, পুবাইল, রূপগঞ্জ ও আশুলিয়ার অংশবিশেষ এই তালিকায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন সেখান থেকেই তিনি দল পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার রায় বাতিল বা অব্যাহতি পাওয়ায় দেশে ফেরার পথ সুগম হয়।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *