চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শৃঙ্খলা ও নকল প্রতিরোধে আগের মতোই ‘নীরব বহিষ্কার’ (সাইলেন্ট এক্সপেল) পদ্ধতি কার্যকর রাখা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালায় এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে দেশের সব শিক্ষা বোর্ড।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীকে সরাসরি হাতেনাতে না ধরলেও সন্দেহজনক আচরণ—যেমন অন্যের খাতা দেখা, ফিসফাস করা বা অস্বাভাবিক নড়াচড়া—পরিলক্ষিত হলে দায়িত্বরত পরিদর্শক তাকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার না করে নীরবে বহিষ্কারের আওতায় আনতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পরে তার উত্তরপত্র বাতিল করা হবে।
এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে এবং লাল কালি দিয়ে ‘রিপোর্টেড’ চিহ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বহিষ্কারের কারণ বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নীরব বহিষ্কারের আওতায় পড়া পরীক্ষার্থীরা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিতে পারবে। তবে তাদের প্রতিটি উত্তরপত্র পৃথকভাবে সংরক্ষণ ও প্রতিবেদনসহ জমা দিতে হবে।
অন্যদিকে, আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রুটিন এখনো প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ৭ জুন থেকে পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিলেও নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসে রুটিন প্রকাশ না হওয়ায় প্রস্তুতি নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে রুটিন প্রকাশ করা হলে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। কিন্তু এবার দেরি হওয়ায় কোন বিষয়ের মাঝে কতদিন বিরতি থাকবে, তা না জানায় পরিকল্পনা করতে সমস্যা হচ্ছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ইতোমধ্যে রুটিন চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে অনুমোদন না পাওয়ায় তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, বোর্ডের কাজ শেষ হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই রুটিন প্রকাশ করা হবে। তবে এখনো এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
