বছরে ১৪ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব

নিউজনেক্সট অনলাইন :

2 Min Read
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে তাদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করার মাধ্যমে বছরে ১৪.০৯ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ।

শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী পরিচালক এম জাকির হোসেন খান এবং সহযোগী গবেষক সাবরিন সুলতানা ও নাজিফা আলম তোরসা এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিসিক শিল্পনগরীর চারটি প্রধান খাত—চামড়া, প্লাস্টিক উৎপাদন, প্লাস্টিক প্যাকেজিং ও হালকা প্রকৌশল—দক্ষতার সঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করলে বছরে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, প্লাস্টিক উৎপাদনে ৩৩–৪৯ শতাংশ পর্যন্ত, চামড়া ও প্রকৌশলে ১৯–৩৩ শতাংশ পর্যন্ত নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

বিশেষভাবে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বিসিক শিল্পনগরীর মাত্র ১০ শতাংশ খালি জায়গা ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৫৭ মেগাওয়াট শক্তি উৎপাদন সম্ভব। এটি বছরে ৫১,৪৪০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে। ২০ শতাংশ খালি জায়গা ব্যবহার করলে ক্ষমতা বেড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

গবেষকরা আরও উল্লেখ করেন, একটি সাধারণ ২০ কিলোওয়াট রুফটপ সোলার সিস্টেম দিনে ৭৯ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম, যা মাত্র ৪.২ বছরে বিনিয়োগের টাকা ফেরত দিতে পারে। এতে এসএমইগুলো পরিচালন ব্যয় ৩০–৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারবে।

এম জাকির হোসেন খান বলেন, এসএমই খাতের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল চালিকাশক্তি। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য অর্জন শুধু জলবায়ু বিষয় নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক টিকে থাকার কৌশল।

গবেষণা থেকে স্পষ্ট হয়, পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও পরিবেশ রক্ষা একসাথে সম্ভব, এবং এসএমই খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা যায়।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *