দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে।
নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। এর মাধ্যমে বিসিবির নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এল। এর আগে বোর্ডটি পরিচালনা করছিলেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
অ্যাডহক কমিটিতে তামিম ছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও আতহার আলী খান। এছাড়া বিভিন্ন পেশা ও পটভূমির আরও আটজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন কমিটি গঠনের পেছনে বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তদন্তে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং কারসাজির অভিযোগ উঠে আসে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কাউন্সিলর তালিকা জমা দেওয়ার সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হয়, যা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কাউন্সিলর মনোনয়নে চাপ প্রয়োগ, অ্যাডহক কমিটিতে সদস্য বাড়িয়ে প্রভাব বিস্তার এবং ভোটার তালিকা প্রকাশে অনিয়মের বিষয়ও উঠে এসেছে।
তদন্তে আরও বলা হয়, ই-ভোটিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়নি। নির্দিষ্ট স্থানে ভোট দিতে কাউন্সিলরদের প্রভাবিত করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।
এছাড়া সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ, পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়া, সময়সীমার পর মনোনয়ন গ্রহণসহ একাধিক গুরুতর অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। তদন্ত কমিটির মতে, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ছিল না।
এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে বিসিবির বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় এনএসসি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
