নওগাঁয় কারা হেফাজতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চার টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিষয়টি এদিন সন্ধ্যায় মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন নওগাঁ জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার আবুল কালাম আজাদ। আব্দুর রশিদ জেলার রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল হিন্দু পাড়া গ্রামের মৃত কান্দুর প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ছিলেন ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো পরিবারে। সেই সাথে গ্রামের লোকজনের মাঝেও হতাশা দেখা যায়।
জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন তিনি। হঠাৎ বুকে ব্যাথা অনুভব করলে কারাগার থেকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার আবুল কালাম আজাদ বলেন, আব্দুর রশিদ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের মামলায় কারাগারে ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ৪টা ১০ মিনিটে ভর্তি করালে ৪টা ৩৫ মিনিটে তিনি মারা যান। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। পরিবারের সদস্যদের তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাত ৮টার দিকে জানতে চাইলে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার আবু জার গাফফার মুঠোফোনে বলেন, আব্দুর রশিদ নামে এক হাজতিকে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে নিয়ে আসা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান। মূলত তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাই দ্রুত মারা যান তিনি।
উল্লেখ গত বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার কুজাইল গ্রামে রাণীনগর থানা পুলিশ অপারেশন ডেভিলহান্ট ফেইজ-টু অভিযান চালায়। অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে। উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই দিন মোতালেব হোসেন নামে এক যুবলীগ নেতাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর তাদের দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়। আজ শনিবার কারা হেফাজতে থেকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন আব্দুর রশিদ।
