মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে প্রদীপ বৈদ্য (২২) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (৩১ মে) রাতে ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত প্রদীপ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের বাসিন্দা শৈলেন্দ্র বৈদ্যের ছেলে।
রোববার (১ জুন) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বিএসএফের গুলিতে প্রদীপ নিহত হওয়ার বিষয়টি আমরা আজ জেনেছি। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রোববার সকালে খবর পাই যে ভারতের অভ্যন্তরে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রদীপের পরিবারটি খুবই অসচ্ছল। তার পিতা শারীরিকভাবে অক্ষম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিল প্রদীপ। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো চোরাচালানচক্রের ফাঁদে পড়ে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন তিনি।”
এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম আপছার জানান, “বিষয়টি আমি গণমাধ্যমেই জেনেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো দাপ্তরিক বা অফিসিয়াল তথ্য আসেনি।”
এদিকে, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া বলেন, “বিএসএফ জানিয়েছে, এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে কীভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই বাংলাদেশিদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার গুলি চালানোর নিন্দা জানিয়ে আসছে। প্রদীপের মৃত্যু আবারও সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
