গজারিয়ায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে ডাকাতদের হামলা, ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :

2 Min Read
জামালপুর গ্রামে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে সদ্য চালু হওয়া পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে কুখ্যাত নৌ ডাকাত নয়ন–পিয়াস গ্রুপ। সোমবার বিকেল ৫টার পর মেঘনা নদীতে এ হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের প্রতিরোধে টিকতে না পেরে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে ৫–৬টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে নদীতে মহড়া দেয় ডাকাতরা। পরে হঠাৎ ৪–৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি চালায় তারা। পাল্টা গুলি ছুড়ে পুলিশও আত্মরক্ষায় নামে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এ গোলাগুলি। এসময় ডাকাতরা শতাধিক রাউন্ড গুলি চালায়, পুলিশও ২০–২৪ রাউন্ড পাল্টা গুলি ছোড়ে। অবশেষে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ডাকাতরা ট্রলার নিয়ে সীমান্তবর্তী মতলবের দিকে সরে যায়।

গজারিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, নয়ন ও পিয়াসের নেতৃত্বে ৩০–৩৫ জন ডাকাত এ হামলায় অংশ নেয়। তারা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। তবে কোনো পুলিশ সদস্য আহত হয়নি। ডাকাত দলের কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে নৌ ডাকাতরা এলাকায় চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে না। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা হামলা চালিয়েছে। ভবিষ্যতে নৌ ডাকাতদের দমনে আরও কঠোর অবস্থান নেবে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট জামালপুর গ্রামে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু হয়। নৌ ডাকাত নয়ন–পিয়াস ও লালু বাহিনীর আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও খুনোখুনির কারণে এ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে ক্যাম্পটি স্থাপন করা হয়। গত কয়েক মাসে তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে ডাকাত সর্দার বাবলা, শুটার মান্নান ও হৃদয় বাঘ নিহত হন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *