আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা তানজিন আহমেদ মিঠু (৩০) মারা গেছেন। রোববার সন্ধ্যায় গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কর্মীরা অবস্থান মঞ্চ ও বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত তানজিন আহমেদ মিঠু উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেনের সমর্থক ছিলেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, মিঠুর শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন নেই, তিনি সম্ভবত স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেন ময়মনসিংহ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আহমেদ তায়েবুর রহমান হিরনের সমর্থকরা। রোববার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনের আয়োজন করা সমাবেশে হামলা চালায় হিরনপন্থীরা। পরে ইকবালপন্থী কর্মীরাও পাল্টা হামলা চালিয়ে হিরনের মহিলা সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর করেন। এতে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন।
ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেন বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি পক্ষ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। আমি প্রশাসন ও দলীয়ভাবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তায়েবুর রহমান হিরনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, এখনও কিছু এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ হচ্ছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
এদিকে শনিবার রাতে জেলা উত্তর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পাপ্পুর কার্যালয়ে হামলা ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে চারজনকে রামদাসহ গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
