টেকনাফে র‌্যাব পরিচয়ে অপহরণ, ৭২ ঘণ্টা পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার

জাফর আলম, কক্সবাজার :

2 Min Read

কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাব পরিচয়ে অপহরণের ৭২ ঘণ্টা পর রোহিঙ্গা যুবক মো. হাফিজ উল্লাহকে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত সেনাবাহিনীর বরখাস্ত সৈনিক সুমন মুন্সীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে একটি দেশীয় অস্ত্র, তিন রাউন্ড গুলি, র‌্যাবের পোশাক ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৫ জুন) বিকেলে র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) আ.ম. ফারুক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আটকদের মধ্যে অন্যতম সুমন মুন্সী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের ডুমরাকান্দি গ্রামের আকবর আলী মুন্সীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।

জানা যায়, ১১ জুন রাত ১১টার দিকে ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রহিমুল্লাহর ছেলে হাফিজ উল্লাহকে র‌্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে একটি অস্ত্রধারী চক্র। রোহিঙ্গা নাগরিক এনায়েত উল্লাহ ও নবী হোসেনের সহায়তায় ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে। পরে ভিকটিমের পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

র‌্যাব-১৫ অপহরণের খবর পেয়ে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং অভিযান চালাতে শুরু করে। ১৩ জুন বিকেলে রঙ্গিখালী এলাকায় ডাকাত সর্দার শাহ আলমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আফ্রিদি ও আব্দুল গফুর নামে দুজনকে আটক করে র‌্যাব। পরদিন ১৪ জুন উখিয়ার মরিচ্যা বাজার থেকে বরখাস্ত সৈনিক সুমন মুন্সীকে আটক করা হয়।

পরে সুমনের মাধ্যমে চক্রের সদস্য ডাকাত শাহ আলম, সন্ত্রাসী রাকিব ও শিকদারের কাছে হাফিজ উল্লাহকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, তবে তারা সাড়া দেয়নি।

রবিবার সকাল থেকে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ২৫৬ সদস্যের যৌথ বাহিনী রঙ্গিখালীর সম্ভাব্য গহীন অরণ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় অপহৃত হাফিজ উল্লাহকে উদ্ধার করা হয়।

আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *