ঢাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন, ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সতর্কতা

জনসমাগম সীমিত রাখতে গণপরিবহন ও ভাড়া করা যানবাহনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রেল ও নৌপথেও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ প্রতিনিধি :

2 Min Read
ফাইল ছবি।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাশকতা প্রতিরোধে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঢাকায় মহড়া দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সাঁড়াশি অভিযান চালানোরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর মানবতাবিরোধী মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করবেন। এ কারণে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাশকতা চালানোর শঙ্কা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পলাতক নেতাকর্মীদের বিভিন্ন হুমকির তথ্য লক্ষ্য করা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গত কয়েক মাসে রাজধানীতে নিষিদ্ধ দলের বিভিন্ন মিছিল এবং দুই-একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাই ১৩ নভেম্বরের আগে বড় ধরনের নাশকতার সম্ভাবনা না থাকলেও পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। শনিবার ডিএমপি সদর দপ্তরে বৈঠকে সব থানার ওসিদের গ্রেপ্তার ও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর সাত হাজার পুলিশ সদস্য বিভিন্ন সড়কে মহড়া দিয়েছে। র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।

১০ নভেম্বর থেকে ঢাকার প্রবেশপথ, আবাসিক হোটেল, মেস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ তল্লাশি, গ্রেপ্তার, টহল ও সাইবার নজরদারি চালানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

র‌্যাব ও ডিএমপি জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের সহিংসতা চালানোর সক্ষমতা এখন নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, জনসমাগম সীমিত রাখতে গণপরিবহন ও ভাড়া করা যানবাহনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রেল ও নৌপথেও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিএমপি তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, , টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং কোনো সংঘাত হলে তা ঠেকাতে প্রস্তুত থাকা হচ্ছে। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‌্যাবের উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, লকডাউন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সাইবার মনিটরিং, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বাড়ানো হবে। তিনি দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ করেছেন, কোনো তথ্য পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে জানান।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি এএইচ এম শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং নাশকতার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন: ৪০০ কোটি টাকার প্রস্তাব ইসির প্রতিবেদনে

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *