আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার (৯ নভেম্বর) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার প্রস্তুত করা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে পাওয়া বিভিন্ন সুপারিশ একত্র করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোটার এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি। নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা যেমনপ্রার্থী বা কর্মীদের ওপর হামলা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, ভোটে বাধা সৃষ্টি, কিংবা বসতবাড়িতে হামলা বা অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বর্তমানে ৬২টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচনের আগে তিন দিন, নির্বাচনের দিন এবং পরে চার দিনসহ মোট আট দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সারাদেশে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সেনা সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকবে। প্রয়োজনে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। সেনাবাহিনী বলেছে, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে কাজ করবে।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের নিরাপত্তা, জরুরি প্রয়োজনে আর্মি অ্যাভিয়েশন ইউনিটের প্রস্তুতি, অঞ্চলভেদে কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন, পার্বত্য এলাকায় হেলিপ্যাড প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজন হলে গাড়ি অধিযাচনের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাবও প্রতিবেদনে রয়েছে। সেনাবাহিনীকে ইতোমধ্যে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি বিচারিক ক্ষমতা দিলে তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনী মালামাল রক্ষায় সেনা সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো এবং নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সবশেষে প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সারাদেশে সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এটি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক ধারণা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সময়ই বাজেট চূড়ান্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা এবং আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এজন্য কমিশন এখন সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে।
