ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে: তিন বছরে ১,৩০৩ দুর্ঘটনায় ১৮৩ প্রাণহানি

বিশেষ প্রতিনিধি :

2 Min Read

পদ্মা সেতুর সঙ্গে যুক্ত ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন এই সড়ক দিয়ে ছুটে চললেও এখন এটি আতঙ্কের আরেক নাম। ক্রমাগত সড়ক দুর্ঘটনায় মহাসড়কটি যেন মৃত্যুমিছিলে পরিণত হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত তিন বছরে এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটেছে ১ হাজার ৩০৩টি দুর্ঘটনা। প্রাণ গেছে ১৮৩ জনের, আহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। শুধু চলতি আগস্টেই এ পর্যন্ত ঘটেছে ১৩টি দুর্ঘটনা। এতে আহত হয়েছেন ২০ জন এবং নিহত হয়েছেন ১০ জন।

সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২১ আগস্ট। শ্রীনগরের ষোলঘর এলাকায় সকালে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়, ঘটনাস্থলেই নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। একই দিনে রাতে সিরাজদীখানের নিমতলায় মোটরসাইকেল–প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত হন আরও তিনজন। সর্বশেষ ২২ আগস্ট সকালে মাওয়া থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার হাঁসাড়া এলাকায় ওভারহিট হয়ে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, অনভিজ্ঞ চালক এবং ট্রাফিক আইন অমান্য দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। অনেক সময় যাত্রী বা আরোহীরা নিজেরাই গাড়ি চালানোর চেষ্টা করেন, যা প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করছে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিটি দুর্ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ধার কাজ চালানো হয়। কিন্তু গতি ও অসচেতনতার কারণে প্রাণহানি ঠেকানো যাচ্ছে না।” শ্রীনগর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ আবু নাঈম সিদ্দিকী জানান, নিয়মিত টহল ও জরিমানা কার্যক্রম চালানো হলেও চালকদের সচেতনতা ও গতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক মানে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা ঠেকাতে হলে স্পিড লিমিট কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, ক্যামেরা নজরদারি, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

এক্সপ্রেসওয়েতে আবারও প্রাণহানি, নিহত ৩

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *