ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দেশটির বিমানবাহিনীর এক শীর্ষ কমান্ডারের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিটি প্রকাশ করে ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি।
আইআরজিসির দাবি, হামলায় ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোথায় ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। একাধিক অসমর্থিত সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তিনি হামলায় আহত বা নিহত হতে পারেন। যদিও এসব তথ্যের পক্ষে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ইরানি একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে তেহরান বা তেল আবিব—দুই পক্ষের কেউই তার অবস্থান বা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের নিশ্চিতকরণ ছাড়া কোনো দাবি গ্রহণে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।
উল্লেখ্য, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আগ্রাসী মনভাবে গাজায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংঘাতে ৭২ হাজার থেকে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক।
তবে এই অভিযানের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনাও তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বেসামরিক প্রাণহানি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরাইলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও উঠেছে, যদিও ইসরাইল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।
দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাতে গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকটে লাখো মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
