জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না বলেও স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন ইসলামপন্থি জনতার বিশ্বাস ও আবেগের প্রশ্নে কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে চায় না। ইসলামের আদর্শের ভিত্তিতে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে দলটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছে, সেখান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।
গাজী আতাউর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে আসন বণ্টন নিয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও, শেষ পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই জোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বদলে নীতি, ইনসাফ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতিই ইসলামী আন্দোলনের মূল দর্শন। তবে এই অবস্থানের কারণে দলটি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিরোধিতা ও বৈরিতার মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। আপিল প্রক্রিয়ায় দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন এবং সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাবেন।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক গুরুত্ব স্বীকার করলেও আদর্শিক ও নৈতিক অবস্থানে ইসলামী আন্দোলন কোনো দলের চেয়ে পিছিয়ে নেই বলে মন্তব্য করেন গাজী আতাউর রহমান।
এ সময় তিনি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা ও শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা না করার অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ইসলামী আইন ও আদর্শ প্রশ্নে এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই জোট থেকে সরে আসার অন্যতম কারণ বলে জানান তিনি।
এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই মাঠে থাকার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো।
