রাজউক প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে ২৩ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুদক মোট ছয়টি মামলা দায়ের করে। পরে সব মামলারই অভিযোগপত্র আদালতে জমা হয়। এর মধ্যে তিনটির বিচারকাজ শেষ হয়েছে, বাকি তিনটির বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে।
গত ১০ নভেম্বর শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে করা তিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে ১৭ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এর আগে ৩১ জুলাই ছয় মামলাতেই মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
একই মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামির তালিকায় রয়েছেন তাঁর বোন শেখ রেহানা, রেহানার সন্তান টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক। তাছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন, সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞাসহ একাধিক কর্মকর্তা ও সদস্যও মামলার আসামি।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের কয়েক সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সেক্টর–২৭ এর ২০৩ নম্বর রোডের ছয়টি প্লট নিজেদের নামে বরাদ্দ নেন। দুদকের দাবি, এটি ছিল স্পষ্ট দুর্নীতি ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার।
